Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৪৯ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, ফাইল ফটো

‘আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গৃহীত ব্যবস্থার ফলে দেশে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আজ সংসদে জাসদের সদস্য এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনী তৎপর থাকায় দেশে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, বর্তমান সরকার সার্বিক আইন-শৃংখলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবন নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, সকল প্রকার সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারকল্পে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ইউনিটে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওয়ান স্টপ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ডেস্ক, মহিলা ও শিশু ডেস্ক স্থাপন, থানাগুলোতে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠান এবং কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তা নিয়োজিত করাসহ জনবান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলা, অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা গৃহিত হচ্ছে।

সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত ‘স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ (এসটিজি)-এর মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, সকল প্রকার নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করাসহ জনসাধারণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিতভাবে আলোচনা সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বা নাশকতা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীসহ সকল অপরাধীদের কর্মকান্ড রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিল্প এলাকায় বিভিন্ন বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক বা বিনিয়োগকারী ও বিদেশী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ও অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের জনবল বৃদ্ধিসহ বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অন্যন্যা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হচ্ছে এবং পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।