Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৪৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আইনমন্ত্রী ‘তাহলে কি করলে মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ হয়??

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম রবিবার ৬ মার্চ বেলা ১১টায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারাধীন মামলা নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক ও সমস্ত বিচার বিভাগকে হেয় করার শামিল।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে প্রধান বিচারপতি ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ৬ মার্চ রোববার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে আনিসুল হক বলেছিলেন, আমি যখন আইনজীবী ছিলাম তখনো কোনো বিচারাধীন বিষয়ে কখনো মন্তব্য করিনি। দেশের আইনমন্ত্রী হিসেবে এখনো বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। মন্তব্য করলে সেটা খারাপ নজির হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যাবিনেটের বৈঠকে ৭ মার্চ বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহা সম্পর্কে দুই মন্ত্রী যা বলেছেন, তা সরকারের বক্তব্য নয়।

মঙ্গলবার ৮ মার্চ আদালত নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত কিছু সংবাদে বিচার বিভাগ নিয়ে অশোভন ও অবমাননাকর মন্তব্য দেখে আদালত স্তম্ভিত। এসব মন্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল বলে আদালত মনে করেন।

গত ২১শে মার্চ শপথ লঙ্ঘনের শাস্তি কি? দুই মন্ত্রীর আদালত অবমাননার শুনানির একপর্যায়ে আপিল বিভাগ এই প্রশ্ন তুলেছিলেন।

রোববার ২৭ মার্চ  প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আট সদস্যের বিজ্ঞ আপিল বিভাগ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অথবা সাত দিনের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

ওই দিন আদেশে আদালত বলেন, “দুই মন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে যে আবেদন করেছেন তা আমরা গ্রহণ করতে রাজি নই। প্রধান বিচারপতি ও সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননা করে তাঁরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের কাছে উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল”।

গতকাল আইনও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন যে, ‘দুই দণ্ডিত মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেননি। সংবিধান লঙ্ঘন হয়নি।’ অনেকেই এই মন্তব্যে হতবাক হয়েছেন। কারণ তারা স্মরণ করছেন যে, এর আগে শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেছেন, দুই মন্ত্রীর মন্তব্যে সংবিধানের লঙ্ঘন ঘটেছে। বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান লঙ্ঘন আর শপথের লঙ্ঘনকে আলাদা করা যাবে না। কারণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। আর মন্ত্রীরা সংবিধান রক্ষণ, সমর্থন ও  নিরাপত্তাবিধানের শপথ নেন।

আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মানে তাহলে সাধারণ মানুষ কি বুঝবেন? কি করে তারা বুঝবেন যে, দুই মন্ত্রীর শপথ ঠিক আছে, আবার আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন সেটাও ঠিক আছে। এই দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় একসঙ্গে ঠিক হয় কী করে?

সুতরাং প্রধান বিচারপতি যেহেতু শপথ লঙ্ঘনের প্রশ্নটি তুলেছিলেন এবং বলেছিলেন দুই মন্ত্রীর বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল বলে আদালত মনে করেন, তাই এই বিষয়ে আদালতের কোনো অভিমত পূর্ণাঙ্গ রায়ে মেলে কিনা, সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। কিন্তু আইনমন্ত্রী ইতিমধ্যেই গতকাল বলে দিলেন ‘শপথের লঙ্ঘন নেই’, ‘সংবিধানের লঙ্ঘন নেই’।

কিন্তু বাংলাদেশে দুই মন্ত্রী বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে যা বলেছেন, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজেই বলেছেন যে, এটা সংবিধান সম্মত হয়নি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মনে করেন দুই মন্ত্রী সংবিধানের লঙ্ঘন ঘটিয়েছেন।

মানুষ এখন অনেক সচেতন। স্বাভাবিক ভাবেই সব মহলের বক্তব্য শুনে তারা মাননীয় আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তুলছেন এরপরও (দুই মন্ত্রীর বিচার বিভাগ নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্য ও দণ্ডিত হওয়া) যদি মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ না-ই ঘটে ‘তাহলে কি করলে মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ হয়??