ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:০৪ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পঞ্চগড়ের মঠে হামলার পর তার বাইরে মানুষের জটলা (ছবি : ফোকাসবাংলা)

‘আইএস নয়, পুরোহিতকে হত্যা করেছে দেশীয় জঙ্গীরাই’

পঞ্চগড় জেলায়একজন হিন্দু পুরোহিতকে হত্যার ঘটনায় ইসলামিক স্টেটের ‘দায় স্বীকার’ করার খবর একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ পেলেও বাংলাদেশের পুলিশ এবং সরকার বলছে, দেশীয় জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোই এসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে – আইএস-এর সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ তারা পান নি।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে যজ্ঞেশ্বর রায় নামে ওই হিন্দু পুরোহিতকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করার পর পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের দু’জন নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র সদস্য এবং আরেকজন ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা। তারা বলছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির টার্গেট নিয়েই গত কয়েক মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এখন নতুন গঠিত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বে আছেন। তিনি বলছিলেন, দেশীয় জঙ্গীরাই বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত।

“গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সারাদেশ থেকে ত্রিশ জনের মতো আটক হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে, জেএমবি এবং হরকাতুল জেহাদসহ দেশীয় জঙ্গীরাই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের সাথে আইএস বা আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের আদর্শ কাছাকাছি হলেও কোন যোগাযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশে আইএস এর অস্তিত্বের কোন তথ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেবীগঞ্জে হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।

তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর কোনটির ক্ষেত্রেই আইএস এর সম্পৃক্ততার কোন তথ্য প্রমাণ বাংলাদেশ পায়নি।”

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আটক তিন জনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের একজন ২০০৫ সালের ১৭ই অগাস্ট সিরিজ বোমা হামলার মামলাতেও অভিযুক্ত।

এই ব্যক্তিসহ দু’জন জেএমবি’র সদস্য এবং আরেকজন ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এর আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলোর সাথে এই হামলার যোগসূত্র আছে কিনা, তদন্তে সে বিষয়েই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দেবীগঞ্চের এই মঠে হিন্দু ধর্ম নিয়ে নিয়মিত শিক্ষামূলক সভা হতো। গৃহত্যাগী সাধু সন্ন্যাসীরা ঐ মঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সেই মঠের পুরোহিতকে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেবীগঞ্জে বিভিন্ন সংগঠন মানব বন্ধন করেছে। প্রতিবাদকারীরা বলেছেন, সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির জন্য এই হামলা করা হয়েছে।

অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলোর মতো এটির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট দায় স্বীকার করেছে বলে এস আই টি ই নামে একটি ওয়েবসাইট এবং আ’মাক নামে আইএস সংশ্লিষ্ট একটি ‘বার্তাসংস্থা’ খবর দেয়।

গত অক্টোবর থেকে দেশে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত নভেম্বরে বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলা হয়। নভেম্বরেই ঢাকার কাছে সাভারে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা হয়।

এর আগে অক্টোবরে রংপুরে একজন জাপানি নাগরিককে হত্যা করা হয়। আগের ঘটনাগুলোর মতো দেবীগঞ্জের হামলার ঘটনাতেও মোটর সাইকেল ব্যবহার করা হয়।

পুলিশ সন্দেহ করছে, দেবীগঞ্জে হিন্দু পুরোহিতকে হত্যার ঘটনার সাথে আগের ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সব ক’টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদেরই শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত এগিয়ে চলছে।

জঙ্গী দমনে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীগুলোর অভিযানের পাশাপাশি এখন জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

http://www.bbc.com/bengali/news/2016/02/160222_bangladesh_hindu_priest_killing_follow_up