শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৩২ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

অভিযান
কুর্দি বাহিনী ইরাকের মসুলেও আইএস এর শক্ত ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

আইএস এর ‘রাজধানী’ দখলে অভিযান শুরু করছে

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহী যোদ্ধারা ইসলামিক স্টেটের হাত থেকে তাদের ‘রাজধানী’ রাক্বা শহর দখল করে নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করার কথা ঘোষণা করেছে। উত্তরের এই শহরটি আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর মূল ঘাঁটি।

বিদ্রোহী যোদ্ধাদের এই গ্রুপটির নাম ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ যেখানে আছে কুর্দী এবং জাতিগত আরব মিলিশিয়ারা।

জঙ্গিদের হাত থেকে গত দু’বছরে তারা কিছু এলাকা দখল করেছে কিন্তু এখনও তারা রাক্কা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেট এই রাক্কা শহরটি দখল করে একে তাদের ভাষায় ‘খিলাফতের রাজধানী’ বলে ঘোষণা করেছিল।

এটি পুনর্দখলের জন্য মার্কিন সমর্থিত যোদ্ধাদের এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউফ্রেটিসের ক্রোধ’ – বা এ্যাঙ্গার অব দি ইউফ্রেটিস।

জানা যাচ্ছে যে এতে থাকবে সিরিয়া ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস নামের প্রধানত: কুর্দি যোদ্ধাদের দল।

তাদেরকে এজন্য ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ নতুন অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছে আমেরিকান-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন এবং তাদের ৩০ হাজার যোদ্ধা এতে অংশ নেবে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গী বিমান হামলা চালিয়ে তাদের আকাশ থেকে সুরক্ষা দেবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, রাক্কা থেকে ৩০ মাইল দূরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসডিএফের মুখপাত্র জিহান শেখ আহমেদ এ লড়াই শুরুর কথা ঘোষণা করেন।

তবে বিবিসির সংবাদদাতা মার্ক লোয়েন জানাচ্ছেন, এই অভিযানে কুর্দি সৈন্যদের ব্যাপকভাবে জড়িত করাটা একটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

কারণ রাক্কা একটি আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর এবং অতীতে এমন হয়েছে যে কুর্দি যোদ্ধারা বিভিন্ন শহর দখল করার পর আরবদের সেখান থেকে বের করে দিয়েছে।

এটা তুরস্ককেও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে – কারণ তারা মনে করে যে সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা আসলে তুরস্কের কুর্দি বিদ্রোহী পিকেকেরই একটি অংশ।

তুরস্কের চোথে এই পিকেকে হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকার সাথে সিরিয়ার কুর্দিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আংকারা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ওপর গুরুতর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

এ কারণে তুরস্ক অন্তত এখন রাক্কা পুনর্দখলের এই অভিযানের অংশ হবে না।

বরং এই অভিযানের সুবাদে কুর্দিরা গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করলে তাতে তারা বাধা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরাকে মসুল পুনর্দখলের অভিযানের সাথে সাথেই রাক্কা দখলের অভিযানটিও শুরু করতে – যাতে মসুল থেকে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা পালিয়ে রাক্কায় আশ্রয় নিতে না পারে

কিন্তু এটা মসুল দখলের লড়াইয়ের চাইতেও কঠিন হতে পারে ,কারণ- সিরিয়ার যুদ্ধের সব পক্ষই ইসলামিক স্টেটের বিরোধী – কিন্তু তারা আবার নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত।

এ কারণে দ্বিতীয় একটি প্রক্সি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

যেভাবেই হোক, জিহাদিদের হাত থেকে রাক্কা পুনর্দখল করার এই লড়াই হবে একটি একটি দীর্ঘ এবং দুরূহ যুদ্ধ – বলছেন বিবিসির মার্ক লোয়েন। বিবিসি