শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:০৬ ঢাকা, শুক্রবার  ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, উন্নয়ন বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের যে কোন স্থানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেশে এবং বিশ্বের যে কোন স্থানে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনিটরিং কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে বাংলাদেশী দম্পতি ও ওহিও রাজ্যে একই পরিবারের আট সদসস্যের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদেরকে বিচারের সম্মুখীন করতে পারবে।

দেশে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতীয়মান হয় যে, আন্দোলনের নামে প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়ে মারার সঙ্গে জড়িত অশুভ শক্তির হাত এসব হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো খুনের ঘটনাগুলো তদন্তের কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, হত্যাকারীরা মসজিদে যাওয়ার পরিবর্তে নামাজের সময়ে মানুষকে হত্যা করতে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, হত্যাকারীদের আল্লাহর ওপর বিশ্বাস এবং কোন জাতীয় পরিচয় নেই।

তিনি বলেন, আল্লাহ হচ্ছে সর্বোত্তম বিচারক। তাহলে, তারা কিভাবে ধর্ম রক্ষার নামে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে।

তিনি এই ধরণের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

এটি ছিল ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা কমিটির চতুর্থ সভা। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইহসানুল করিম বলেন, সভায় দশটি ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পগুলো হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেল যোগাযোগ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপালে ২টি ৬৬০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি ২টি ৬৬০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (মেট্রো রেল), এলএনজি টারমিনাল নির্মান প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প, দোহাজারি থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গজ রেল লাইন প্রকল্প।

প্রেস সচিব আরো জানান, কমিটি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এগুলোর বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাংশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল। তিনি বলেন, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।

২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার আরো ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সর্বাধিক স্বচ্ছতার সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।