ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৪২ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

লিটন
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুনিরা খুব কাছ থেকে এমপি লিটনকে গুলি করে।

‘অস্ত্র ঠেকিয়ে বুকে-হাতে পাঁচটি গুলি করা হয়’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে খুনিরা খুব কাছে থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে পাঁচটি গুলি করে হত্যা করে।

রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমপি লিটনের বুকে ও হাতে পাঁচটি গুলি করা হয়। বুকের ভেতর থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে।

সকাল ৯টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে। সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে ডা. খায়রুল ইসলাম ও ডা. রেজাউল করিম তার ময়নাতদন্ত করেন।

ময়নাতদন্ত শেষে অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার জানান, এমপি লিটনের বুকে তিনটি এবং হাতে দুটি গুলি করা হয়েছিল। তার শরীর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার ফুসফুস লিভার, পেটে প্রচুর পরিমাণ জমাটবাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুনিরা খুব কাছ থেকে এমপি লিটনকে গুলি করে। এমনভাবে গুলি করা হয়েছে যে, গুলিতে তার মৃত্যুর নিশ্চিত জেনে ঘাতকরা চলে যায়।

ময়নাতদন্ত শেষে এমপি লিটনের মরদেহ কড়া পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় গোসল করানোর জন্য। সেখান থেকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তার মরদেহ আনা হয় পুলিশ লাইন্স স্কুল কলেজ মাঠে। সেখানে প্রথমে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, এসপি মিজানুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ লাইন্স স্কুল কলেজ মাঠে এমপি লিটনের প্রথম নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খন্দকার মোসাব্বিরুল ইসলাম।

সোমবার ১০টায় ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকালে মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরগঞ্জে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন এমপি লিটন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।