রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাব সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দুটি করা হয়। ধানমণ্ডি থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে র‍্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দুটি করেছে।

এর আগে শুক্রবার শফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

এদিন বিকালে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‍্যাব।

অভিযানে বেশ কিছু জুয়া খেলার কয়েন, প্লেয়িং কার্ডের ৫৭২টি সেট, আটশ’ হলুদ রঙের ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। ক্যাসিনোর সরঞ্জাম এখানে ছিল না। তবে ক্যাসিনোতে ব্যবহার করা হয় এমন কয়েন পাওয়া গেছে।

জব্দ হওয়া ইয়াবাগুলো প্রচলিত ইয়াবা থেকে আলাদা ধরনের। এর কোনো গন্ধ নেই। অস্ত্র ও ইয়াবাগুলো ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলমের অফিস কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শফিকুল আলম ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

এছাড়া ক্লাব থেকে হারুন, আনোয়ার, হাফিজুল ও লিটন নামে আরও চারজন স্টাফকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন রাতে ধানমণ্ডি ক্লাবেও অভিযান চালায় র‍্যাব। তবে ধানমণ্ডি ক্লাবটি বন্ধ থাকায় দু’একজন স্টাফ ছাড়া কেউ ছিল না।

এ ক্লাবের একটি বার রয়েছে। র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজম ক্লাবটির বার ২৪ ঘণ্টার জন্য সিলগালা করে দেন।

জানা গেছে, ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি দুদকের আইনজীবী।

এছাড়া এদিন রাত ৮টার দিকে এজাক্স ক্লাব ও কারওয়ান বাজার মৎস্যজীবী ক্লাব ঘিরে রাখেন র‍্যাব সদস্যরা। ক্লাব দুটির ভেতরে কেউ না থাকার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অভিযান না চালিয়ে র‍্যাব সদস্যরা চলে যান সেখান থেকে।

এর আগে বুধবার বিকালে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বাসা এবং ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবে একযোগে অভিযান চালায় র‍্যাব।

ওই এলাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর আহমেদ টাওয়ারে গড়ে তোলা ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র‍্যাব।

অভিযানে ক্লাবগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ দেশি ও বিদেশি টাকা, অস্ত্র ও নেশাজাতীয় বিভিন্ন দ্রব্য জব্দ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা খালেদকে।