Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত:প্রধানমন্ত্রী

pm14-1-16প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক ও সার্বক্ষণিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের অখ-তা রক্ষায় যে কোন অশুভ শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, দেশের অখন্ডতা রক্ষায় যে কোন অশুভ শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আপনাদের প্রশিক্ষণের দক্ষতায় বলতে পারি আপনারা সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনী।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রংপুর জেলার পাগলাপীর খালিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের শীতকালীন মহড়া ‘সুচাগ্র মেদেনি’ প্রত্যক্ষ করার পর দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
৬৬ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই মহড়া পরিচালিত হয়।
৬৬ পদতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার অব কমান্ডিং (জিওসি) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক ও ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক ও হেলিকপ্টার ছাড়াও আর্মি এভিয়েশন ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক এবং ৬৬ পদতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার অব কমান্ডিং (জিওসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক তাঁকে স্বাগত জানান।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানদ্বয় এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় দরবারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণ হচ্ছে দেশের শক্তি এবং তারা (সেনা সদস্যরা) এই জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা লাভ ও তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের সকলেরই জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসা অর্জন করা জরুরি। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া (যুদ্ধে অর্জিত) বিজয় কখনও পূর্ণতা পায় না। তাই, আপনাদরকে অবশ্যই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনা সদস্যরা তাদের মহৎ কাজ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জনগণের অকৃত্রিম ভালবাসা ও আস্থা অর্জনে অব্যাহতভাবে সক্ষম হবেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তাঁর সরকার সম্প্রতি প্রণীত ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর মাধ্যমে আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বদ্ধ পরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী সুশৃঙ্খল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ করে সেনাবাহিনীর অবদান আজ সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, পূর্বের ন্যায় এবারের প্রশিক্ষণেও বিজিবি, আনসার এবং বিএনসিসি ক্যাডেটদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আধাসামরিক বাহিনী ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাতৃভূমি রক্ষার এ কৌশল আমাদের সেনাবাহিনীর রণকৌশলে এক ভিন্ন ও প্রশংসনীয় মাত্রা যুক্ত করেছে।
বিগত সাত বছরে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমাদের সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও অগ্রগতির অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করে।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথেই আমরা সেনাসদস্যদের রসদ বৃদ্ধি করেছি।
নতুন পে কমিশন গঠন করে ইতোমধ্যেই অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের সাথে সেনাসদস্যদেরও বেতন ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেসিও’দেরকে প্রথম শ্রেণী এবং সার্জেন্টদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সামরিক বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, আর্মি মেডিক্যাল কলেজ, আর্মি নার্সিং কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সামরিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ লক্ষ্যে পেশাগত মানের উৎকর্ষতা সাধন এবং সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি প্রণীত ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর মাধ্যমে আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য সরকার বদ্ধ পরিকর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ আজ আর ক্ষুধা দারিদ্র্য-পীড়িত নয়, এই সরকার দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগসহ দেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন খন্ড চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে, সেনাবাহিনীকেও সেই মোতাবেক সক্ষমতার দিক থেকে স্বতন্ত্র ও প্রশাসনিকভাবে সামর্থ্যবান তিনটি কমান্ডে নিয়োজিত হতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশনার আলোকেই প্রবর্তিত ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা সম্পন্ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন এবং রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে এবং বরিশাল-পটুয়াখালীর লেবুখালীতে সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদিও সংযোজন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে কোন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সেনাবাহিনী সর্বদা দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পরম মমতায়। উত্তরাঞ্চলের ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেও আপনাদের ডিভিশন একটি মহান দায়িত্ব পালন করছে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে আপনারা শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, নানাবিধ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করে জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছেন জেনে আমি খুশী হয়েছি।
ভবিষ্যতে এরূপ মহতী উদ্যোগ অব্যাহত রেখে সেনা সদস্যগণ জনগণের অকৃত্রিম ভালবাসা ও আস্থা অর্জনে অব্যাহতভাবে সক্ষম হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।