Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

অর্থপাচার আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় অপরাধ : গভর্নর

মানিলন্ডারিং কিংবা বৈধ পথ ব্যবহার করে দেশ থেকে অর্থপাচার আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় অপরাধ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘অর্থপাচার একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। এর ফলে মানুষ তার সম্পদের অধিকার হতে বঞ্চিত হয়। দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হয়। তাই দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হওয়া জরুরিভিত্তিতে রোধ করা একান্ত আবশ্যক।’

রোববার হবিগঞ্জের দ্যা প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) আয়োজিত প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০১৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আতিউর রহমান বলেন, ‘বিদেশে যে পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয় তার সিংহভাগই বাণিজ্যভিত্তিক। চলমান সময়ে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বিদেশে পাচারকৃত অর্থের সিংহভাগ হচ্ছে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে। আমি জানতে পেরেছি, এ সম্মেলনে আপনাদের সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিগণের মতবিনিময়ের সুযোগ ছিল। এর ফলে আপনারা আসন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। একইসঙ্গে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় কৌশল নির্ধারণ ও প্রতিরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ সহজতর হবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি সারা বিশ্বেই ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। প্রযুক্তির ফাঁক-ফোকড় দিয়েও সাইবার অপরাধী চক্র টাকা পাচারে সক্রিয় আছে। বাংলাদেশও এই সাইবার আক্রমণের বাইরে নেই। তাই পুরো আর্থিক খাতকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরো সক্রিয় ও সক্ষম হতে হবে। আরো সুদৃঢ় প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা দেয়াল গড়ে তুলতে হবে। অর্থপাচার রোধে ব্যাংকগুলোর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি যে গতিতে প্রসারিত হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মাত্রা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের কৌশলগত দুর্বলতা এবং উদার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে লন্ডারিংকৃত অর্থ সহজেই বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে ঢুকে পড়ে। আবার খুব সহজেই এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যায়। এসব অবৈধ অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনোরূপ ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে না।’

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপ ও করণীয় সম্পর্কে গভর্নর বলেন, ‘কিছুদিন আগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতেও ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু আইন প্রণয়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তনই শেষ কথা নয়, এসব কাঠামোর পরিবর্তন তখনই সার্থক হবে যখন আমরা দেশ থেকে অর্থপাচার পুরোপুরি রোধ করতে পারবো। আমি আশা করি, এখান থেকে ফিরে গিয়ে আপনারা সকলে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সকলের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করবেন এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর রূপরেখা তৈরি করবেন।’

বিএফআইইউ কর্তৃক আয়োজিত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০১৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ’র উপপ্রধান মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের মান্ডিলন্ডারিং ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।