Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২৭ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘অর্থনৈতিক ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ-বুলগেরিয়া’

বাংলাদেশ ও বুলগেরিয়া উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ জোরদার করার লক্ষ্যে ভবিষ্যত অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে একমত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বোইকো বরিসভের মধ্যে আজ সকালে এখানে আনুষ্ঠানিক বৈঠককালে এ ঐকমত্য হয়েছে।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তারা বলেন, একটি উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশটির মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তারা আরো বলেন, আনুষ্ঠানিক আলোচনা পূর্বে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠক করেন। এতে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র সচিব ও প্রেস সচিব বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার আগে দুটি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল। তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর এই সম্পর্ক পিছিয়ে পড়ে।

তারা আরো বলেন, নতুন করে এ সম্পর্ককে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি একদিকে ‘দ্বিপাক্ষিক সফর’ অন্যদিকে ‘বহুপাক্ষিক’; কারণ প্রধানমন্ত্রী এখানে ‘গ্লোবাল উইমেন লিডার্স ফোরামে’ যোগ দিয়েছেন।

তারা বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তারা আরো জানান, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগির বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বরিসভকে আবারো আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র সচিব ও প্রেস সচিব বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের বাইরে আন্তর্জাতিক শান্তি ও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চারটি ব্যাপক ক্ষেত্র বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যেমন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাধারণ ব্যবসা, আইসিটি খাতে বিনিয়োগ, এসইজেড, কৃষি ও জার্ম প্লাজম এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউ বাজারে বুলগেরিয়ার একটি বড় প্রবেশাধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বাজারে অনুসন্ধান চালাতে পারে।

শহীদুল হক বলেন, বুলগেরিয়া আইসিটি খাতে এবং জার্ম প্লাজম ও বীজসহ কৃষি খাতে অনেক অগ্রসর অবস্থানে রয়েছে। তাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব খাতে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং দেশব্যাপী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আইটি ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, এছাড়াও, দুটি দেশের পর্যটন খাতে সহযোগিতা গড়ে তোলা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুলগেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে সাক্ষরিত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তিটি কার্যকর করার প্রস্তাব দেন। জবাবে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি গ্রহন করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বুলগেরিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তৈরী পোষাক কারখানা স্থাপন করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি একটি ব্যাপক সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য ব্যবসায়ী মহলের এগিয়ে আসা উচিত।

ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক বৈঠককালে বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত উন্নয়নের দিকগুলো বিশেষ করে নারীদের অগ্রগতি ও বাংলাদেশী নারী শান্তিরক্ষীদের অবদান তুলে ধরেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর থেকে পূর্ব ইউরোপের দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি দেশের সুষম সহযোগিতার’ বিষয়টি বিবেচনা করে কাজ করার জন্য বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ব্যবসা বান্ধব ও তাঁর সরকারের দেয়া আকর্ষনীয় প্রণোদনার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ করার জন্য বুলগেরিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং সোফিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিক আলোচনাকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।