বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক

অর্থনীতিতে দ্রুত অগ্রসরমান দেশ ‘বাংলাদেশ’

বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত অগ্রসরমান পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ সকল দেশে সমষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রফতানিমুখি শিল্পের ভূমিকা অন্যতম। তবে দেশগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ কার্যালয়ে আজ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন আপডেট : সতর্ক পূর্বাভাস’ শীষর্ক বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেটে এ কথা বলা হয়েছে।

আপডেটে বলা হয়েছে, উন্নয়ন টেকসই করতে আর্থিক খাত, অবকাঠামো, মানব সম্পদ এবং ব্যবসায়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে আরো বলা হয়, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রবার্ট জে সাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন পাওয়ার পয়েন্টে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এতে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার ৭.৩ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হার যথাক্রমে ৭.৪ ও ৭.৩ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্ব ব্যাংকের এই পূর্বাভাস ইতোপূর্বে দেয়া বাংলাদেশ সরকারের পূর্বাভাসের চেয়ে কম। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হার ৮.১৩ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশে চলতি অর্থ বছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ এই উন্নয়ন আপডেটে চলতি অর্থবছরে বিশ্বে সবোর্চ্চ জিডিপি ৮.৮ শতাংশ অর্জনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আপডেটে বলা হয়েছে, ইথিওপিয়া ৮.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এ ছাড়া রোয়ান্ডা ৭.৮ শতাংশ, ভূটান ৭.৬ শতাংশ, ভারত ৭.৫ শতাংশ, এবং জিবুতি, ঘানা, আইভোরি কোস্ট ও বাংলাদেশ ৭.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন আপডেট প্রকাশকালে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রবার্ট জে সাম বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে রবার্ট জে সাম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে পাচঁটি দ্রুত অগ্রসরমান দেশের মধ্যে একটি। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি অথবা ৮ শতাংশ যেটাই অর্জিত হোক না কেন, বার্তাটি হচ্ছে, বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি হারে রয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটি উচ্চ প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ যদি ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, তাহলে আমরা সকলেই বিশেষ করে বিশ্ব ব্যাংক সবচেয়ে বেশি খুশি হবে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে অথবা ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বালাদেশকে প্রযুক্তি ও মানব সম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ করতে হলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বিশ্ব ব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বিগত অর্থ বছরে রফতানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতে দুই ডিজিট বেড়েছে, তবে অন্যান্য খাতে রফতানি আয় কমেছে।

বিশ্ব ব্যাংক কানিট্র ডিরেক্টর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেন।

সর্বশেষ সংশোধিত: