ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৫৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৯শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

অর্থনীতিতে আমেরিকার পতন

শীর্ষ মিডিয়া ৯ অক্টোবর ঃ অর্থনীতিতে পতন হলো আমেরিকার। বিশ্বে আর এক নম্বর নয় এই দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে তাকে টপকে গেছে চীন।খোদ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) এই তথ্য দিচ্ছে। ১৪২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র তার শীর্ঘ অবস্থানটি হারালো পূবের দেশ চীনের কাছে। এর মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্য তার জৌলুস হারালো। আর পূর্বে ঝলকানি দিয়ে উঠলো অর্থনীতির সুর্যালোক। ১৮৭২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রই ছিলো বিশ্ব সেরা অর্থনীতি। কিন্তু ২০১৪ সালে এসে চীনের অর্থনীতি আজ ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনীতি ১০.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের।
 

আইএমএফ’র নতুন হিসাবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে দেখানো হচ্ছে ভারতকে। এরপর চতুর্থ জাপান, পঞ্চম জার্মানি। পরে যথাক্রমে রয়েছে রাশিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া। আর সেরা দশের শেষ নামটি যুক্তরাজ্য।১৮৭২ সালে এই যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলেই শীর্ষে অবস্থান নিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।   সাম্প্রতিক বছরগুলো ধরে চীনের অর্থনীতি ধাই ধাই করে অগ্রগতির পথে রয়েছে। তাদের যেমন বাড়ছে শিল্পায়ন, তেমনি অন্যান্য খাতেও এগিয়ে যাচ্ছে। আর ধারণাই করা হচ্ছিলো চীনই হতে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা অর্থনীতি। তেমনটাই হলো। আইএমএফ’র হিসাবমতে, ২০১৯ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতির মোট আকার দাঁড়াবে ১৬.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর ততদিনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ১৩.৭ ট্রিলিয়নের ওপরে উঠবে না। আর তখন চীন চলে যাবে ধরা-ছোঁয়ার সম্পূর্ণ বাইরে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে অন্তত ২০ভাগ।

অর্থনীতির এই জটিল হিসাব কষেছে আইএমএফ। তারা দুই দেশেরই বাজারদরের সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতার সামঞ্জস্য টেনে তার ভিত্তিতে জিডিপি মেপে দেখেছে। আর বলে দিয়েছে, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ এসে বিশ্বের ১৬.৪৮ শতাংশ ক্রয়ক্ষমতা একা চীনের দখলে গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে রয়েছে ১৬.২৮ শতাংশ।

 বিশ্বমন্দার আগে তিন দশক ধরেই চীন দুই অংকের প্রবৃদ্ধির হার গুনে আসছিলো। শিল্পায়ন আর অব্যাহত অর্থনৈতিক সংস্কার দেশটিকে পূবের একটি পাওয়ার হাউজে পরিণত করেছিলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হয়ে আসে। তবে পশ্চিমের চেয়ে তা শক্তিশালী ছিলো সবসময়ই। আইএমএফ চীনে এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০১৪ সালের জন্য ৭.৪ এবং ২০১৫ সালের জন্য ৭.১ শতাংশ ধরে রেখেছে। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা যথাক্রমে ২.২ এবং ৩.১ শতাংশ মাত্র। পশ্চিমা আরেক শক্তিশালী দেশ যুক্তরাজ্যের জন্য এই প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৩.২ ও ২.৭ শতাংশ।

আইএমএফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কিছুটা হলেও অর্থনীতিতে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু নতুন শতাব্দীর প্রথম দশকে যেমনটি ছিলো সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খবর যে পুরোটাই খারাপ তা নয়। ক্রয়ক্ষমতার এই হিসাব নিকেশকে বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনেক এগিয়ে। সেই হিসাবে চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো অন্তত ৬.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বড়। আর সে বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে চীনের ম্যালা সময়ই লাগবে।