ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:০৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

অবরোধ চলছে, অব্যাহত থাকবে: বিএনপি

বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষে ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় এ অবরোধ।

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে না দেয়া, বিএনপি নেত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখা ও নেতাকর্মীদের নির্যাতন-গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার বিকালে লাগাতার অবরোধের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

এদিকে বুধবার রাতেও অবরুদ্ধ অবস্থায় ‘দু:শাসনের’ অবসান ও ‘বিপন্ন গণতন্ত্র’ পূণ:রুদ্ধারের লক্ষ্যে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

সর্বাত্মক এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সব নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন।

বিবৃতিতে যুগ্ন সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে- মর্মে বিভিন্ন সরকারি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি উদ্বাত্ত আহবান জানাচ্ছি।’

অবরোধের সমর্থনে বৃহস্পতিবার সকালেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সড়কে অগ্নিসংযোগ, রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে নেয়া ও পুলিশের সঙ্গে অবরোধ সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধের সমর্থনে রাজধানীর ডেমরায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা বনশ্রীতে বিক্ষোভ করেছে শিবির। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে বেশকয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। ভাংচুর করেছে ৩/৪টি যানবাহন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মতিঝিল এলাকায় দিবানিশী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে স্থানীয়রা দ্রুত বাসটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পাটুরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে অবরোধ সমর্থকরা। ফেনীতে সড়কে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এতে পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মী পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ওই জেলায় চলছে সর্বাত্মক হরতাল।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় শমসেরনগর এলাকায় ফিসপ্লেট খুলে নেয়ায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।  এতে ৭০ জনেরও বেশী যাত্রী আহত হয়েছেন।

জয়পুরহাটের উরী ব্রিজ এলাকায় রেল লাইনের প্রায় ৩৫ ফুট অংশের ফিসপ্লেট খুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অবরোধকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। এছাড়া র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অবরোধে রাজধানীতে অভ্যন্তরিণ সড়কে গণপরিবহন চলাচল করছে। তবে তুলনামূলক কম। কিছু কিছু ব্যক্তিগত গাড়িও চলছে। তবে ঢাকার কোন বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। একই সাথে দূরপাল্লার কোন যান ঢাকায়ও প্রবেশ করেনি।

বাস কাউন্টারগুলো থেকে বলা হয়েছে, যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় তারা বাস ছাড়ছে না। এছাড়া গতকাল দুই-একটি বাস ছাড়লেও বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের হামলার শিকার হয়েছে। এজন্য তারা বাস ছাড়তে আতঙ্কবোধ করছেন।

এদিকে আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা জানায়, অভ্যন্তরিণ সড়ক ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমাগামী যানগুলো অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যার কারণে সেগুলো ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

অবরোধকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।