ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৫৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

অফিসে ষড়যন্ত্রের শিকার হলে করণীয়ঃ

অফিস পলিটিক্স বিষয়টা সব অফিসেই কমবেশি আছে। এবং সত্য কথাটা হচ্ছে, কেউ যখন অন্যদের চাইতে খুব ভালো কাজ করেন বা নিজের ক্যারিয়ারে এগিয়ে যান, তখন এই ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়াটা সবচাইতে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই ষড়যন্ত্র হতে পারে নানাবিধ কারণে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে প্রোমোশন, বসের নজরে ভালো হওয়া, কিংবা প্রেম-ভালোবাসা ঘটিত সম্পর্কের কারণেও। আর করতে পারেন আপনার সমপর্যায়ের কলিগ, আপনার অধীনে কাজ করা কেউ, সমলিঙ্গের কেউ যে আপনাকে ঈর্ষা করে, এমনকি আপনার ইমিডিয়েট বসও।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এমন অবস্থায় আপনি কী করবেন?
১) একটা জিনিস প্রথমেই মনে রাখবেন, মানুষ তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করে যার সাথে প্রতিযোগিতায় সে জিততে পারে না। অফিসে যখন পলিটিক্সের শিকার হবেন, মন ছোট করে ফেলবেন না। এটা ভেবে খুশি থাকুন যে নিজের কাজটা আপনি খুব ভালভাবেই করছেন। আর তাই তো কিছু মানুষের চক্ষুশূল আপনি।
২) মন খারাপ করে কখনো কাজে ঢিলেমি দেবেন না। তাতে যা হবে সেটা হলো, বস বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আপনার প্রতি খারাপ ধারণা জন্মাবে। এবং যারা বসের চোখে আপনাকে খারাপ বানাচ্ছে, তারা আরেকটি অস্ত্র পেয়ে যাবে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার। বরং নিজের কাজটি আগের চাইতেও অনেক বেশি ভালোভাবে করুন।

৩) আপনার বিরুদ্ধে গ্রুপিং করা হচ্ছে মানেই আপনিও পাল্টা গ্রুপিং করতে যাবেন না। বরং আপনি নিজে চুপচাপ থাকুক। আর চুপ থেকে নিজের শত্রুদের চিনে নেবার চেষ্টা করুন। একবার চিনে নিতে পারলে তাঁদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। আপনি গ্রুপিং করলে উল্টো দোষের ভাগীদার হবেন।

৪) এমন পরিস্থিতিতে সবচাইতে ভালো আসলে বসের সাথে খোলাখুলি কথা বলা। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ বসই এসব নিয়ে সোজাসুজি কথা বলেন না। আরও বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষ সাধারণত তাঁদেরকেই পছন্দ করেন, যারা কিনা অন্যের নামে বদনাম করতে পারেন। আপনার বস যদি এমন ধরণের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে চুপ থাকাই ভালো। বরং নিজের কাজ দিয়েই প্রমাণ করে দিতে থাকুন যে আপনি কতটা যোগ্য।

৫) হ্যাঁ, অফিসে পলিটিক্সের শিকার হলে কাজ করতে কারোই ভালো লাগে না। ইচ্ছা করে না। এই অবস্থায় আপনি নতুন চাকরি খুঁজতেই পারেন। যদি কিছুতেই মন না টেকে, তাহলে নতুন চাকরিই খুঁজে নিন। তবে হ্যাঁ, দোষের বোঝা মাথায় নিয়ে চাকরি ছাড়বেন না। যে দোষ আপনি করেন নি, সেটার দায় কেন নেবেন? যাওয়ার আগে সবকিছু পরিষ্কার ও স্পষ্ট করে প্রমাণ করে তবেই যান।

৬) একটা জিনিস মনে রাখবেন, কাজেই আপনার পরিচয়। যদি আপনি কাজ ভালো করেন, কারো ক্ষমতা নেই আপনাকে চাকরি থেকে বের করার বা যন্ত্রণা দেয়ার। তবে হ্যাঁ, আপনার বিরুদ্ধে চাল দিয়ে আপনাকে বাধ্য করার চেষ্টা হতেই পারে। তাই নিজের কাজের দিকে বাড়তি মনযোগ দিন। সবকিছু ডাবল চেক করুন।

৭) একটা কথা মনে রাখবেন, কাউকে বিশ্বাস করবেন না। কর্মক্ষেত্রে যারা নিজের কাজটা খুব ভালো পারেন, তাঁদের আসলে কোন বন্ধু থাকে না। আপনি হয়তো যাকে বিশ্বাস করে নিজের মনের কথা বিনিময় করছেন, সেই মানুষটাই আপনার সাথে সবচাইতে বড় শত্রুতা করছে। বিশ্বাস করে ঠকার চাইতে বিশ্বাস না করে স্বস্তিতে থাকা ভালো।

৮) আরও একটা জিনিস জেনে রাখুন, কেউ যদি ষড়যন্ত্রকারীদের কথা শুনে আপনার প্রতি আস্থা হারায় বা আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, তাহলে সেই দায় তার। এমন মানুষের জন্য কষ্ট পাবেন না। যে অন্যের কথা আপনাকে অবিশ্বাস করতে পারে, সে কখনোই আপনার বন্ধু ছিল না। আর যারা ভুল বুঝেছে, শত চেষ্টা করেও তাঁদের ভুল ভাঙাতে পারবেন না। আর তাই অযথা চেষ্টাও করবেন না। আপনি নিজের তরফ থেকে ভালো ব্যবহার বজায় রাখুন। সূত্র-mindtools

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন

Leave a Reply