ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:১৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের আইনটি বর্তমান সরকারের সময়ে বহাল থাকবে’- অর্থমন্ত্রী

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বহাল রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন এই আইনটি বহাল থাকবে।

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও, তা অর্জনের বিষয়ে পুরোপুরি আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অব্যশই উচ্চাভিলাষী।তবে গত ৭ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি জানি, রাজস্ব প্রশাসনে অনেক নতুন জনবল যুক্ত হয়েছে। এ সময়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষতারও সৃষ্টি হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের যে দক্ষতা আছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে তারা সক্ষম হবেন বলে আশা করছি।’

শুক্রবার বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সাথে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থসচিব মাহবুব হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অর্থমন্ত্রীকে সহায়তা করেন।

অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে সাফল্য কিছুটা দুর্বল ছিল উল্লেখ করে বলেন, এ বছর রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। এজন্য এনবিআরকে আরো গতিশীল করতে আগামী বাজেটে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ কর আদায়ের প্রস্তাব করেছি।

এ সময় তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরো গতিশীল করার নির্দেশ দেন।

বেসরকারী খাতে পেনশন ব্যবস্থা চালু প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সংগঠিত খাতগুলোতে অংশীদারিত্বমুলক পেনশন ব্যবস্থা চালু করা যায় কি-না, এমন চিন্তাভাবনা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যেকের জন্য পেনশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বেসরকারী খাতে পেনশন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বহাল রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কারোর আয় যদি কোন কারণে অপ্রদর্শিত থেকে যায়, তাহলে সে জরিমানা দিয়ে সেটা বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।এটা আয় করের সাধারণ আইন।এই আইনের মধ্যে থেকেই তারা এই সুযোগটি পাচ্ছেন।’
বর্তমান সরকার যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন এই আইনটি বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমূখী ও প্রগতিশীল বলে অভিহিত করে বলেন, এই বাজেটে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার মূল দাবিদার আওয়ামী লীগ সরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্ত। আর সরকার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি কয়েছে, যা অনেকে প্রতিক্রিয়াশীল বলছে। বর্তমান সরকার উন্নয়ন করে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্চ ছিল। আমরা সেটা করতে পেরেছি। একইসাথে সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচকও ইতিবাচক আছে। তিনি এসব অর্জনকে সরকারের বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গত কয়েকবছর যাবৎ অর্থনীতিতে প্রনিধানযোগ্য উন্নতি হচ্ছে। প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে।এর সাথে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থান কমেছে, কারো কারোর এমন হিসাবকে তিনি নাকচ করে দেন।

৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। বাসস

muhith5