ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:১২ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় পরিচালিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘অপরের ক্ষতি করতে গেলে সেই ক্ষতিটা নিজের হতে পারে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলী জাগিয়ে তুলে সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপরের ক্ষতি করতে গেলে সেই ক্ষতিটা যে নিজের হতে পারে সেই চিন্তা থেকে নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলীটা জাগিয়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা। মানুষের ভেতরের সুপ্রবৃত্তিগুলো যেন জাগ্রত হয় সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আমি বলব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রচারটা করে যাওয়া, মানুষের ভেতরকার পশুত্বটা যেন জেগে না ওঠে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা-মাকেও একটা জিনিষ বুঝতে হবে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিলেই কিন্তু কোন সমস্যার সমাধান হলো না। বরং তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় পরিচালিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এবং ইউনিসেফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ এর কল সেন্টারের ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘন্টা এর সেবা পাওয়া যাবে।

চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ এর কেন্দ্রীয় কলসেন্টারে কর্মরত সমাজকর্মীগণ দুস্থ এবং সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন মাফিক তথ্য ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করে থাকেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চাইল্ড হেল্প লাইন বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

ইউনিসেফ এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২৫ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোস্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি)’ শীর্ষক একটি কারিগরি প্রকল্পের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১৬ মেয়াদি এই ‘চাইল্ড হেল্প লাইন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের সুবিধবঞ্চিত পথশিশুদের সামাজিক সুরক্ষা, পরিবারে পুনঃএকত্রিকরণ, আশ্রয় ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের যে হেল্প লাইন- ১০৯৮ চালু হয়েছে এটা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমে যাবে। যারা অপকর্ম করবে তারা একটু ভীত সন্ত্রস্থ থাকবে যে, সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যাবার ভয় থাকবে। আর এই লাইনটি যদি কেউ অপব্যবহার করে তাহলে তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কাজেই বিনাকারণে বিরক্তটা যেন কেউ করতে না পারে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জিল্লার রহমান, সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ঈমান আলী এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ি এবং ফরিদপুরের সেইফহোমে থাকা ভিকটিম এবং তাদের পরিবারের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত, তারা সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে। তাদের মন মানসিকতা ভাল হবে। তারা লেখাপড়া শিখবে বা যে কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এভাবেই সমাজকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, সমাজের সবাইকে আমি বলব, প্রত্যোকেই এই চিন্তা করবেন যে, প্রত্যেকেরই সন্তান আছে, মা-বোন আছে তাদের নিরাপত্তা দেয়া যেমন প্রত্যেকের দায়িত্ব আবার অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমাদের এ টু আইয়ের মাধ্যমে সেটা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি-আমাদের শিশু আদালতগুলি শুধু না,সারা বাংলাদেশের আদালতগুলির সাথে বিশেষ করে নবনির্মিত যে কারাগার (কেরানীগঞ্জ) সেখানে আমি নির্দেশ দিয়েছি কোর্ট রুম তৈরী করতে। কারাগারের সঙ্গে কোর্ট রুম থাকবে। যেসব আসামী ভয়ংকর প্রকৃতির ,যাদেরকে বারাবার আদালতে আনা নেয়া করাটা সমস্যা, তাদের জন্য ঐখানেই আদালত বসবে। ঐ খানেই তাদের আইনজীবীরা থাকবে এবং অনলাইনে বিচার হবে। এই অনলাইনের বিচার কার্যক্রম শুরু করতে আমি ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি। আর শিশু আদালতের জন্য এটা আমার মনে হয় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ ব্যবহারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭৯ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করাসহ মোট ২০৭০ জন শিশুকে বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ এ পর্যন্ত মোট কল হয়েছে ৪৫,৭০৫ টি।