Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৫৪ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

অনুমোদন পেলে ইউরোপে বিপুল পরিমান মধু রপ্তানি করা যাবে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ইইউর অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউরোপের বাজারে দেশের মধু রপ্তানির দুয়ার খুলে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়। উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ও মৌমাছির সংখ্যা বাড়ালে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমান মধু বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
শিল্পমন্ত্রী আজ রাজধানীর ফার্মগেটে খামার বাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে তিন দিন ব্যাপি মৌ মেলা ২০১৬ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এটি ছিল দেশের প্রথম মৌ মেলা।
কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান।
গুণগতমানের মধু উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, একদিকে মধু সংগ্রহে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ অন্যদিকে মধুর প্যাকেজিংয়ে আধুনিকতা আনতে হবে। এ বিষয়ে মৌচাষীদের কার্যকর প্রশিক্ষণ, কারিগরী সহায়তা বৃদ্ধি ও সচেতন করলে মধু উৎপাদনে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, মধু চাষের কারণে কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ বেড়ে যায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে কৃষি প্রযুক্তির মতো মৌচাষের উপকারিতা সম্পর্কেও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে মধু উৎপাদন জনপ্রিয় করতে হবে। তাহলে দেশে মধু উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। এতে করে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, মধুর ব্যবহার ও উৎপাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। শুধুমাত্র বিদেশে রপ্তানীর কথা চিন্তা না করে মধুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। তাহলেই মধু চাষ ও এর ব্যবহার বাড়বে।
তিনি কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মধুর ভেজাল রোধে সহজ পদ্ধতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্রেতারা যেমন প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবে তেমনি মধু ব্যবহারকারীদের মাঝে আস্থার সৃষ্টি হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এবার অন্যান্য খাদ্যশস্য, সবজি ও তেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মৌ চাষিরা দেশে একটি মৌ বোর্ড এবং মৌমাছি গবেষণা ইনিস্টিটিউট স্থাপনের দাবি জানান। এছাড়াও আর্ন্তজাতিক মানের একটি মধুশোধনাগার স্থাপনের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এর আগে অতিথিরা মেলার উদ্বোধন করে অংশগ্রহণকারী ৩৪টি স্টল ঘুরে দেখেন। ‘মিলবে পুষ্টি বাড়বে ফলন, আয় বাড়াবে মৌ পালন’ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া এই মৌ মেলা চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।