ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ

অনমনীয় ‘প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ’ বাধ্য হয়ে নমনীয়

ফ্রান্সের ৪০ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এতদিন পর্যন্ত নিজেকে অনমনীয় ও দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী একজন অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিলেন৷ তবে এবার তাঁকে থামতে বাধ্য করা হলো৷

পরিবেশের কথা চিন্তা করে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে জ্বালানি কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল মাক্রোঁর প্রশাসন৷ এছাড়া পুরনো গাড়ি থেকে বেশি ধোঁয়া বের হয় বলে সেগুলো ব্যবহারে জরিমানারও প্রস্তাব করা হয়েছিল৷

কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি দেশটির কম আয়ের মানুষ৷ তাই অক্টোবরে সামাজিক মাধ্যমের সহায়তায় বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছিল৷ তাতে সাড়া দেন অনেক নাগরিক৷ ফলে গত কয়েক সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ বিক্ষোভকারীরা হলুদ রংয়ের জ্যাকেট পরে আন্দোলনে অংশ নেয়ায় এটি ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে৷

গত শনিবার আন্দোলনের মাত্রা চরমে পৌঁছে৷ প্যারিসে প্রায় ২০০টির মতো গাড়িতে আগুন দেয়া হয়৷ এছাড়া ‘আর্ক অফ ট্রায়াম্ফ’-এ ক্ষতিসাধন করা হয়৷ এই সময় অনেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷

এরপর মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এডুয়া ফিলিপের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু বিক্ষোভকারীরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি৷

এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ প্রশমন করতে মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জ্বালানি করের প্রস্তাব ছয় মাস পিছিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ৷ সোমবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ এই সিদ্ধান্ত নেন বলে ফ্রান্সের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে৷

এছাড়া পুরনো গাড়ি ব্যবহারে যে জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটিও তিন মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷

তবে বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলের নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারছেন না৷ আন্দোলনকারীদের নেতা বেঞ্জামিন কাউচি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমস্যা সমাধানের ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি কর বাড়ানোর প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন৷

এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যিনি মাক্রোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, সেই চরম ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীরা কর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন, স্থগিত নয়৷

উল্লেখ্য, ‘ইয়েলো ভেস্ট’দের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অতীতে উচ্চবিত্তদের উপর যে ‘সম্পদ কর’ ধার্য ছিল সেটি আবারও ফিরিয়ে আনা৷ মাক্রোঁ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই কর বাতিল করে দিয়েছিলেন৷ এর পক্ষে তাঁর যুক্তি ছিল, ধনী ব্যক্তিরা এতে উৎসাহী হয়ে বিনিয়োগ বাড়াবে, যা নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে৷ –ডি ডব্লিউ

শীর্ষ মিডিয়া