Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৫০ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

“অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো”

বেতনভাতাসহ ৫ দফা দাবিতে ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সোমবার থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অচল হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে প্রায় সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে। আন্দোলন প্রলম্বিত হলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে সেশনজটে পড়বে। এতে দীর্ঘায়িত হবে শিক্ষাজীবন।

শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবির অন্যতম হচ্ছে, অধ্যাপকদের একটি অংশকে সিনিয়র সচিবের সমান বেতনভাতা দেয়া। এছাড়া নতুন পে-স্কেলে, সপ্তমের (৭ম পে-স্কেল) আদলে সিলেকশন গ্রেড-টাইম স্কেলসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রভাষকের পদ অষ্টম গ্রেডে উন্নীত করা, সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই উচ্চশিক্ষায় বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে সুযোগ দেয়া এবং গাড়ি কেনা ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দেয়ার দাবি যুক্ত হয়। এসব দাবি নিরসনে তিন ধরনের পদক্ষেপ উপেক্ষিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, সবা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি চলছে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ আছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পূর্বঘোষিত পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে। নতুন করে কোনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে না। তিনি বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি চলবে।

বেতনভাতার ইস্যুতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাস বাংলাদেশে এই প্রথম। এ আন্দোলন অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এর সঙ্গে তৃতীয় কোনো পক্ষ ভিড়ে যেতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, শিক্ষক আন্দোলনকে ইস্যু করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যে কারণে তারা ইস্যুটি দ্রুত নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ড. ফরাসউদ্দিন কমিশন অষ্টম পে-স্কেলের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। এ নিয়ে পরে কাজ করে সচিব কমিটি। এ কমিটি গত বছরের ১৪ মে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনের অসঙ্গতি নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তা আমলে না নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় পে-স্কেল অনুমোদন হয়। প্রজ্ঞাপন জারি হয় ১৫ ডিসেম্বর। প্রজ্ঞাপন জারির আগে পে-স্কেলের সংকট নিরসনে তিন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ। এ তিনটির মধ্যে একটি পদক্ষেপও বাস্তবায়ন হয়নি। মূলত এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ক্রমেই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ছে। এর অংশ হিসেবেই এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।